এফিলিয়েট মার্কেটিং কি

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? যে ১০ কারণে এফিলিয়েট মার্কেটি করা উচিত

বর্তমান চাকরির বাজারের কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে. এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? কি কি কারণে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়? চলুন সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব আজকের এই আর্টিকেলে-

প্রযুক্তির দুনিয়ায় এফিলিয়েট মার্কেটিং স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেকার তরুণদের এফিলিয়েট মার্কেটিং হতে পারে ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ একটি সুযোগ।

তাছাড়া আপনি যদি ব্লগিং, ইউটিউবিং কিংবা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে বাড়তি ইনকাম করার জন্য আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন এখনি। মূলত, ব্লগারদের ইনকামের বেশিরভাগ একটি অংশ আয় হয় এফিলিয়েট মার্কেটিং হতে। কারণ, এফিলিয়েট থেকে আয় করা অন্যান্য অনলাইন আয় থেকে তুলনামূলক সহজ ও লাভজনক।

১২-১৫ বছর লেখাপড়া করে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য আমরা অনেকবেশি চিন্তিত হয়ে পড়ি। কিন্ত আপনি যদি একটু স্মার্ট হোন, তাহলে আপনাকে গতানুগতিক চাকরি পেছনে না দৌড়তে হবে না। কারণ, বর্তমানের অনলাইন দুনিয়ায় অনলাইন ইনকাম করার জন্য অনেক পথ আমাদের জন্য খোলা রয়েছে।

তার মধ্যে এফিলিয়েট মার্কেটিং হতে পারে আমাদের জন্য অনন্য ও লাভজনক। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি যেকোন জায়গা থেকে যেকোন অবস্থায় আপনি অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন- এমনকি আপনি ঘুমিয়ে থাকার পরও!

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পেছনের গল্প?

বর্তমানে এফিলিয়েট মার্কেটিং হল অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিক্রয় কৌশল। এ কৌশল অনেক অনেক বড় বিক্রেতা কোম্পানি ব্যবহার করে তাদের বিক্রম কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বহুবছর ধরে। এ কৌশলটি ব্যবহারের বিক্রেতা ও এফিলিয়েটকারী উভয়ের জন্য লাভজনক হওয়াতে এটি দিনে দিনে আরো বেশি জনপ্রিয় ও এটির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর বর্তমানে ৮০% বিক্রেতা এবং ৮৫% কনটেন্ট ক্রিয়েটার বা প্রকাশক এফিলিয়েট বিপণন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর এফিলিয়েট বিপণন কৌশল ব্যবহার ইনকামের পরিমাণ ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে যে সংখ্যাটা ২০২৩ সালের মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌছাবে।
  • ২০১৮ সালে বিক্রেতারা তাদের সামগ্রীক বিপণন খরচের জন্য প্রথাগত বিপণন পদ্ধতির জন্য ৬২% হিসাবে ধারণা করা হয়েছিল কিন্ত সেই বছরই প্রথাগত পদ্ধতির চাইতে তিনগুণ বেশি বিক্রি বৃদ্ধি পায় এফিলিয়েট মার্কেটিং এর দ্বারা। ধারণা করা হয়, অনলাইনে অর্ডারের ১৬% এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
  • ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আমাজন.কম এর এফিলিয়েট এর সকল পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়। যার মাধ্যমে প্রকাশক/নির্মাতাদের জন্য পণ্য বিক্রির ১-১০% হারে অফার করে। এটির মাধ্যমে প্রকাশক/নিমার্তাদের প্যাসিভ অনলাইন ইনকাম বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করে। তাছাড়া এটির মাধ্যমে আমাজন.কম এর বিক্রয় হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

আপনি শুধু এফিলিয়েট করে ইনকাম নয়, বরং এটির মাধ্যমে আপনি একটি নিজের ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবেন। আপনি যদি একটি অনলাইন ব্যবসা তৈরি করতে চান তাহলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটি কৌশল ব্যবহার করে আপনার ব্যবসায়ের আয় দ্রুত বৃদ্ধি করতে পারেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

এফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি প্রক্রিয় যার মাধ্যমে একজন এফিলিয়েট/প্রকাশক/নির্মাতা অন্য ব্যক্তি/বিক্রেতা কিংবা কোম্পানির পণ্য বিপণন করে নির্দিষ্ট পরিমাণের একটি কমিশন আয় করে। একজন এফিলিয়েট শুধুমাত্র ভোক্তাগণ যে পণ্যটি ভোগ করার জন্য খোঁজে থাকে, সেই পণ্যটি প্রচার করে এবং তার প্রতিটি বিক্রয় থেকে লাভের নির্দিষ্ট একটি অংশ আয় করে থাকে। সাধারণত, এফিলিয়েটরের বিক্রি হওয়া পণ্যগুলি বিক্রেতা বা কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে অনুমোদিত লিংকের মাধ্যমে ট্র্যাকিং করা হয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং সংজ্ঞা: http://justlearnwp.com/

দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ১০টি এফিলিয়েট সাইট?

  • Amazon
  • E-bay
  • Wall-mart
  • Ali-baba
  • Ali Express
  • Envato
  • Creative Market
  • Flipkart
  • Namecheap
  • Bluehost
  • Hostgator

আমি আপনাকে ব্যক্তিগত পরামর্শ হিসেবে, আমাজন ও এনভাটোর মত বিশ্বখ্যাত কোম্পানির সাথে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে বলব। নিজের জন্য একটি স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন বিশ্বস্ততার সহিত।

তাছাড়া আপনি চাইলে এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন বিক্রেতা/কোম্পানির সাথে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। যেমন: দারাজসহ আরো বিভিন্ন কোম্পানি আছে। আপনি একটু গুগল করলে পেয়ে যাবেন খুব সহজে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে কাজ করে?

এফিলিয়েট মার্কেটিং পণ্যের বিপণন এবং মার্কেটার সৃষ্টির দ্বায়িত্বগুলোকে বিভিন্ন দক্ষ জনবলদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে কাজ করে থাকে। কারণ, এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী বিপণন কৌশল হওয়াতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় এবং যারা বিক্রয় অবদান রাখে তাদেরকে বিক্রয়ের একটি অংশ প্রদানে করে থাকে বিক্রেতা কিংবা কোম্পানি।

কিভাবে কাজ করে এফিলিয়েট মার্কেটিং
কিভাবে কাজ করে এফিলিয়েট মার্কেটিং?

এ বিপণন কৌশলটি সম্পন্ন করতে তারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে এই বিপণন কৌশলে জড়িত থাকতে হবে:

  • বিক্রেতা ও পণ্য উৎপাদনকারী।
  • বিজ্ঞাপনদাতা কিংবা এফিলিয়েটর।
  • গ্রাহক।

আসুন তাদের সম্পর্কে একটু সংক্ষেপে জেনে নিই।

১. বিক্রেতা ও পণ্য উৎপাদনকারী:

বিক্রেতা একক উদ্যোক্তা কিংবা একটি বৃহৎ মালিকানার একটি প্রতিষ্ঠান। যেটি নিজের কিংবা অন্যের এক বা একাধিক পণ্য বাজারজাত করে থাকে অনলাইনের মাধ্যমে। এই পণ্যগুলো হতে পারে কোন একটি শারীরিক বস্তু, গৃহস্থালী সামগ্রী, মেকআপ, প্রযুক্তি পণ্য, সফটওয়্যার, টিউটেরিয়ালের এর পরিষেবা যা বিক্রয়যোগ্য।

এখানে একজন বিক্রেতার সরাসরি বিপণন কার্যক্রম জড়িত না থেকেও আয় করতে পারে খুব সহজে। কারণ, বিক্রেতা চাইলে তার পণ্যের বিজ্ঞাপনদাতা ও এফিলিয়েটরদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে পণ্য বিক্রির একটি লভ্যাংশ তাদের প্রদান করে বিক্রেতা লাভবান হতে পারে খুব সহজেই।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার একটি ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা সফটওয়্যার বিক্রির ওয়েবসাইট আছে। আপনি সেই ওয়েবসাইটটির পণ্য সরাসরি নিজে বিক্রি না করেও সহজে লাভজনক হতে পারবেন এফিলিয়েট বিপণন কৌশল ব্যবহার করে। আপনি এফিলিয়েটরদের বিক্রি হওয়া পণ্য থেকে লাভের নির্দিষ্ট একটি অংশ শেয়ার করে আপনি নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌছাতে পারবেন খুব সহজে তাদের দ্বারা।

২. বিজ্ঞাপনদাতা কিংবা এফিলিয়েটর:

একজন এফিলিয়েট প্রকাশক/নির্মাতা হিসাবেও পরিচিত। এফিলিয়েটটি মূলত একজন্য ব্যক্তি কোম্পানি যারা সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে আকর্ষণীয় নানা উপায় অবলম্বন করে বিক্রেতা বা কোম্পানির পণ্য বাজারজাত করতে সহায়তা করে থাকে।

আরো সহজে বলতে গেলে, একজন প্রকাশক/নিমার্তা বিক্রেতা যে পণ্যটি বিক্রয় করছে সেটিকে গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, মূল্যবান বলে থাকে, যাতে একজন গ্রাহক পণ্যটি কিনতে সম্মত হয়।

এরই মধ্যে, গ্রাহকের পণ্যটি আসলেই উপকারী ও মূল্যবান মনে হলে পণ্যটি ক্রয় করে থাকে, তাহলে পণ্যটির প্রচারকারী কিংবা পণ্যটির কেনার প্ররোচনাকারী (এফিলিয়েটর) ঐ পণ্যের জন্য নির্ধারিত একটি লভ্যাংশ পেয়ে যাবে।

সাধারণত এফিলিয়েটদের একটি নির্দিষ্ট ধরণের গ্রাহক/অডিয়েন্স থাকে, এই গ্রাহকদের মধ্যে তারার বিক্রেতার পণ্য বাজারজাত করে থাকে। তারা নিজেদের এমনভাবে ব্র্যান্ড তৈরি করে, সেই ব্র্যান্ড ভ্যালু কাজে লাগিয়ে এফিলিয়েটররা ভোক্তা কিংবা দর্শকদের কাছে যেকোন বিক্রেতার পণ্য প্রচার করে থাকে। তারা পণ্য বাজারজাত করার জন্য দর্শকদের আগ্রহ ও প্রয়োজন মেনে চলে। 

৩. গ্রাহক

একজন ভোক্তা কখনো জানে কিংবা কখনো জানে না পণ্যটি এফিলিয়েট মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করে তার কছে বিক্রয় করছে তা। কারণ, এফিলিয়েটররা বিক্রেতা বা কোম্পানির পণ্যগুলি তাদের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট কিংবা মিডিয়া, ব্লগ এবং ওয়েবসাইটে শেয়ার করার মাধ্যমে একজন সঠিক ভোক্তার কাছে পৌছায়।

যখন একজন ক্রেতা এফিলিয়েট করা পণ্যটি কেনেন, তখন পণ্যটির বিক্রেতা ও পণ্যটি বিক্রয়ের পিছনের কারিগর অর্থাৎ এফিলিয়েট মার্কেটার লভ্যাংশ শেয়ার করে নেয়। প্রায়শই একজন এফিলিয়েট মার্কেটার তার বিক্রিত পণ্যের উপর কমিশন পাবে তা প্রকাশ করে একজন ভোক্তাকে আকৃষ্ট করে পণ্যটি বিক্রি করতে।

কিন্ত মাঝে-মধ্যে একজন ক্রেতা যদি বুঝতে পারে তাদের ক্রয়কৃত পণ্যের উপর এফিলিয়েট বিপণন কাঠামো কাজ করে, সে এ কাঠামো পণ্য কিনতে উদাসীন হলে পণ্যটি না কিনতেও পারে।

একজন গ্রাহক যখন অনুমোদিত এফিলিয়েট লিংক দ্বারা এফিলিয়েটরের বাজারজাত করা পণ্যটি এবং নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে যতগুলি পণ্য কিনবে, ততগুলি পণ্যের ওপর কমিশন পাবে। একেক ওয়েবসাইট একেক-রকম নিয়মে এই কমিশন প্রদান করে থাকে।

যেমন- একজন এফিলিয়েটরের লিংক দিয়ে আমাজনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে যতগুলি পণ্য কিনবে ততগুলি পণ্যের উপর ১-১০% কমিশন লাভ করবে। কমিশনের হার কোম্পানি ভেদে আলাদা হয়ে থাকে।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের অর্থ প্রদান করা হয়?

সাধারণত, এফিলিয়েট হচ্ছে একটি ঝামেলাহীন একটি অনলাইন আয় করার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। কারণ, এফিলিয়েট মার্কেটারদের প্রথমদিকে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তাই অর্থ উর্পাজনের সময়টা হয় অত্যন্ত সহজ। বিক্রেতার সাথে একজন এফিলিয়েট মার্কেটার ভোক্তাকে লিংক করিয়ে দেওয়ার কীভাবে এফিলিয়েট আমাদের অর্থ প্রদান করে থাকে?

কারণ, যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার কথা ভাবতেছেন তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশ্ন । আসুন, আমরা এই জটিল প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ একজন এফিলিয়েটরের অর্থ আয় করার জন্য সবসময় একজন ক্রেতাকে পণ্য কিনতে হবে এমন কথা নেই । অর্থ প্রদান করার বিষয়টি, বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন প্রোগ্রামের উপর নির্ভর করে একজন এফিলিয়েটরের কমিশন নির্ধারণ করা হয়।

এফিলিয়েট এর জন্য বিভিন্ন অর্থ প্রদান করা যেতে পারে:

১.প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান:

এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বেশিরভাগ ব্যবহৃত একটি এফিলিয়েট মার্কেটিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে, একজন প্রকাশক/নির্মাতা তার নিজস্ব ওয়েবসাইট, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্রেতার বা কোম্পানির বাজারজাতকৃত পণ্যের বিক্রির উপর একটি নির্দিষ্ট হারের কমিশন পেয়ে থাকেন।

এখানে একটি শর্ত কাজ করে তা হল; একজন প্রকাশকের বাজারজাতকৃত পণ্যটি অবশ্যই একজন ক্রেতাকে কিনতে হবে তাহলেই প্রকাশক (যদি আপনি একজন প্রকাশক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি) নির্দিষ্ট বরাদ্দকৃত কমিশনটি পাবেন।

২. লীড প্রতি অর্থ প্রদান:

এই পদ্ধতিটি এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জটিল একটি পদ্ধতি। এই প্রোগ্রামে, প্রকাশককে লিডের উপর ভিত্তি করে প্রতি লিডের জন্য বরাদ্দকৃত কমিশন প্রদান করা হয়। এই প্রোগ্রামের অধীন কৌশল অনুযায়ী একজন এফিলিয়েটরকে অবশ্যই একজন গ্রাহক বা ভোক্তাকে বিক্রেতার ওয়েবসাইট পরিদর্শন ও বিক্রেতার কাঙ্খিত পদক্ষেপ এবং শর্ত পূরণ করতে রাজি করাতে হবে।

এটি হতে পারে কোন যোগাযোগ ফর্ম পূরণ করা, কোন পণ্যের ট্রায়াল করতে সাইন আপ করা, কোন নিউজলেটারের সদস্যপদ নেওয়া, ই-মেইল সাইন-আপ, কোন সফটওয়্যার বা ফাইল ডাউনলোড করা। এসব শর্তগুলোর যেকোন একটি পূরণের মধ্যে দিয়ে একজন এফিলিয়েটর ইনকাম করে থাকে এ পদ্ধতিতে।

৩. প্রতি ক্লিকে অর্থ প্রদান:

এ পদ্ধতির মাধ্যমে বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ভিজিটর কিংবা গ্রাহক নিয়ে আসা হয় প্রকাশকের ওয়েবসাইট কিংবা আরো বিভিন্ন প্রচলিত যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে।

এ জন্য প্রকাশকের ওয়েবসাইট হতে কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে যতগুলো ক্লিকের মাধ্যমে বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ভিজিটর প্রবেশ করবে তার উপর নির্ভর করে ততগুলি ক্লিকের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে। এ পদ্ধতিতে মূলত একজন বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ভিজিটর/গ্রাহক বাড়ানোর জন্য পরিচালনা করা হয়।

উক্ত তিনটি পদ্ধতি হতে সবচেয়ে জনপ্রিয়, সর্বজন ব্যবহৃত ও ক্যারিয়ারের জন্য অনলাইনে স্মার্ট ও প্যাসিভ আয় করা পদ্ধতি হচ্ছে প্রতিটি বিক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান পদ্ধতি। এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপনি একটি স্মার্ট ও দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন।

এটির আয় যেমন দীর্ঘস্থায়ী ও স্মার্ট তেমনি মিলিয়ন ডলার আয় করার সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়। কারণ, আপনি যতবেশি বিক্রি করতে পারবেন ততবেশি কমিশন পাবেন। আর তাছাড়া সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, আপনি এ পদ্ধতি আনলিমিটেড আয় করতে পারবেন।

যে ১০ কারণে আপনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন?

আপনি একজন এফিলিয়েট মার্কেটার হওয়ার অন্যতম কারণ হল আপনি এখানে আপনার বস। কাউকে কোন প্রকার জবাবদিহিতা করতে হবে না। আপনি অনেক চাকরি করতে পারবেন চাইলে কিন্ত এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মতো সুযোগ-সুবিধা কোথাও পাবেন না। কারণ, আপনি চাকরিতে সীমাহীন নয় বরং নির্দিষ্ট একটি পারিশ্রমিক পাবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে তেমন নয় আপনি সীমাহীন আয় করার সুযোগ আছে।

 এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সূবিধা-সমূহ
এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সূবিধা-সমূহ

১. প্যাসিভ ইনকাম:

আপনি যদি আপনার জীবন-ধারণের জন্য অর্থ উপার্জন করতে চান, তাহলে আপনাকে ভাল মানের চাকরি অবশ্যই করতে হবে। আপনি একটি ভাল মানের চাকরি না পেতেও পারেন আবার পেলেও আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করতে হবে।

আপনি যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে অবস্থান না করেন হয় আপনার বেতন কাটা যাবে নয় তো আপনাকে চাকরি থেকে বাদ দিবে কর্তৃপক্ষ। কিন্ত এফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে অতিবাহিত করার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারবেন । আপনার শরীর ও মনের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অনলাইনে আয় করার সম্ভব।

এ পদ্ধতিতে আপনি বেশ কিছুদিন একটু কষ্ট করলে সাফল্য আপনার কাছে অবশ্যই ধরা দিবে। আপনি এখানে যে সময়টা ব্যয় করবেন, আপনি সেই সময়ের ক্রমাগত ফিডব্যাক মূল্য ফেরত পাবেন। আপনি একবার কাজ সম্পন্ন করবেন, আর প্রতিদিন গ্রাহকরা এখান থেকে প্রতিদিন পণ্য কিনতে থাকলে আপনি কমিশন পেতে থাকবেন।

এমনকি আপনার কাজ শেষ হলেও আপনাকে এখান থেকে দীর্ঘমেয়াদী একটি প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি আপনার কাজ শেষ করার পরও আপনাকে কম্পিউটারের সামনে আর না বসলেও চলবে। কারণ, আপনার বাজারজাত দক্ষতা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী অবিচ্ছিন্ন আয় করতে সহায়তা করবে।

২. কোন গ্রাহক সেবা প্রদান করতে হয় না:

এফিলিয়েট মার্কেটারদের জন্য বড় একটি সুবিধা হল গ্রাহকদের আলাদাভাবে তাদের কোন গ্রাহক সেবা প্রদান করতে হয় না। কারণ, গ্রাহকরা আপনার দর্শক তারা আপনার গ্রাহক নন বরং তারা আপনার বাজারজাতকৃত পণ্যটির বিক্রেতার গ্রাহক।

তাই, বিক্রয় পরবর্তী সকল গ্রাহক সেবা বিক্রেতা বা কোম্পানি তদারকি করবেন। কারণ, তাদের ক্রেতা পণ্য কিনে সন্তুষ্ট হবে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এফিলিয়েটেরদের এ বিষয়ে কখনোই চিন্তা করতে হয় না। কারণ, একজন এফিলিয়েটরের কাজই হল বিক্রেতার সাথে গ্রাহকের লিংক করে দেয়া। আপনার বিক্রয় হওয়া পণ্যটি হতে কমিশন পাওয়ার পরে গ্রাহকদের সাথে সকল অভিযোগ বিক্রেতা মোকাবিলা করবেন।

৩. বাড়ি থেকে কাজ করা যায়:

আপনি যদি অফিসে বসে কাজ করাকে এড়িয়ে চলেন এমন একজন মানুষ হয়ে থাকেন, তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং হতে পারে আপনার জন্য দারুণ একটি সুযোগ।

আপনি বিপণন প্রক্রিয়াটি শুরু এবং সকল কাজ আপনার নিজের ঘরে বসে সম্পন্ন করে বিক্রেতার পণ্যগুলি হতে একটি ভাল মানের ইনকাম করতে সক্ষম হবেন। এটি এমন একটি কাজ, যা সম্পন্ন করার জন্য কস্মিনকালেও অফিসে গিয়ে করতে হবে না।

৪. সাশ্রয়ী

আপনি যদি কোন একটি নতুন ব্যবসায় শুরু করতে চান, তবে আপনার প্রথম দিকের অনেক ধরণের খরচ থাকবে। তাছাড়া ব্যবসায়ের পণ্য বাবদ আপনাকে অনেক বেশি মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে। তবে, আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন তাহলে স্বল্প খরচে শুরু করে দিতে পারেন অতিদ্রুত ।

কারণ, অন্যান্য ব্যবসায়ের চাইতে তুলনামূলক কম খরচে ঝামেলাহীনভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে মূলধণের চাইতে দক্ষতা বেশি কাজে লাগে। এখানে, গতানুগতিক ব্যবসায়ের মত পণ্য মজুদের জন্য পণ্য উৎপাদন কিংবা কিনে রাখতে হয়া না। বেশ ঝুকিঁহীন ছাড়াই এই কাজটি শুরু করা যায়।

৫. সুবিধাজনক:

আপনি যদি এই মূহুর্তে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু কথা ভাবছেন, তাহলে এটার চাইতে ভাল কোন সিদ্ধান্ত আপনার জন্য হতে পারে না। কারণ, আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করার পাশাপাশি অনলাইনে জগতে আপনার অবস্থানকে আরো বেশি পাকা-পোক্ত করতে সাহায্য করে। দেখা যাক, কিভাবে অনলাইনে আপনার অবস্থান পাকা-পোক্ত হয়ে যায়?

এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনাকে একটি ওয়েবসাইট অবশ্যই দরকার হতে পারে। আপনি ওয়েবসাইটটি যেহেতু নিজে পরিচালনা করবেন, এতে করে আপনার নানাদিকে আরো দক্ষতা বেড়ে যাবে। যেমন: কনটেন্ট রাইটিং, এসইও, ওয়েবসাইট ম্যানেজম্যান্ট, বিভিন্ন কোম্পানির বিধি-নিষেধ সম্পর্কে অবগত থাকবেন। এতে করে আপনি, এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি মার্কেটপ্লেস গুলোতে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন।

৬. কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক পুরস্কার।

মনে করেন, আপনি অফলাইন উপার্জনের কোন একটি অফিসে ৮০-ঘন্টা কাজ করবেন তার বিনিময়ে ঘন্টা হিসেবে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবেন। তা আপনি আপনি সপ্তাহ পর পর নিবেন তাহলে যখনের টাকা আপনি তখন পেয়ে গেলেন। কিন্ত এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে আপনাকে সম্পূর্ণভাবে কর্মদক্ষতা উপরি ভিত্তি করে অর্থ প্রদান করবে ।

আপনি এখানে যতবেশি দক্ষতার সাথে সময় দিবেন ততবেশি আয় করতে পারবেন। আপনি একজন প্রকাশক হিসেবে যতটুকু দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন আপনার অর্থ উপার্জন ততটুকু করতে পারবেন। এতে করে আপনার মধ্যে একটা আগ্রহ কাজ করবে কাজের প্রতি। কারণ, আপনি এখানে আপনার দক্ষতা যত ঢেলে দিবে ততই অর্থ পাবেন।

৭. SEO এর শক্তিকে অবমূল্যায়ন করবেন না।

আপনি যদি এসইও জানেন তাহলে, আপনার জন্য এটিই হবে মূল চালিকা শক্তি। সঠিক এসইওয়ের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন থেকে প্রচুর অর্গানিক ভিজিটর/ট্র্যাফিক পাবেন, তারাই আপনার গ্রাহক। কারণ, যারা স্মার্টভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চায় তারা একটি ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করে। ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করলে তারা একটি ব্র্যান্ড ভ্যালুু তৈরি হয়, গ্রাহক বিশ্বাস করে, তাই এটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আর সেই ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনে অবশ্যই র‌্যাঙ্ক করাতে হবে। র‌্যাঙ্ক করলে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসার মাধ্যমে আপনার প্রচার করা পণ্যগুলি বিক্রি বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ্যযোগ্য হারে। তাই আপনাকে ওয়েবসাইটকে অবশ্যই সঠিক নিয়মে ভাল করে এসইও অপটিমাইজ করে নিতে হবে। সঠিক এসইওয়ের জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয় সম্পকে ধারণে থাকতে হবে।

  • নিশ সিলেকশন
  • কিওয়ার্ড রিসার্চ
  • অন-পেইজ অপটিমাইজেশন
  • অফ-পেইজ অপটিমাইজেশন/লিংক বিল্ডিং
  • টেকনিক্যাল এসইও

সার্চ ইঞ্জিনে আপনাকে র‌্যাংক পাওয়ার জন্য “সেরা পণ্য” বা “পণ্য পর্যালোচনা” ইত্যাদি বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তারপর এগুলোকে ভালভাবে এসইও করতে হবে।

৮. আপনিই হবে আপনার বস।

আপনি একটি অফিসে চাকরি করলে আপনার কোন কতৃপক্ষ কিংবা বস অবশ্যই থাকবে। আপনার বসকে অবশ্যই কাজের অগ্রগতি প্রতিদিন রিপোর্ট করতে হবে। আপনার বস আপনাকে প্রতিদিন কোন না কোন জবাবদিহিতার মুখে ফেলবেন। আপনাকে নানাভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, তারপর আপনার কোন না দায়িত্ব অর্পণ করবেন। কাজটি সঠিক নিয়মে হচ্ছে কিনা তাও তদারকি করবেন প্রতিনিয়ত। কিন্ত আপনি যদি এমন কোন ব্যক্তি হয়ে থাকেন যে, আপনি কোন বস মানতে চান না আপনিই বস হতে চান তাহলে আপনার জন্য চাকরি করাটা হয়ে উঠবে অত্যন্ত বিরক্তিকর।

আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করলে, আপনি নিজেই নিজের অঘোষিত বস। কারণ, এখানে আপনি আপনার কর্মদক্ষতার অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তাই আপনাকেই আপনার কাজ নির্ধারণ করতে হবে এবং আপনাকেই সকল কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আপনার সফলতার জন্যই সকল কাজের তদারকি করতে হবে। আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি সাফল্য পাচ্ছেন কিনা তাও আপনি নিজেই তদারকি করবেন। আপনি যদি কাজটি সঠিকভাবে নাও করতে তবে আপনাকে কারো জবাবদিহিত মোকাবেলা করতে হবে না।

এতে করে আপনি আস্তে আস্তে নিজেই নিজের বস হিসেবে পরিণত হবেন। এরকম স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ আপনি গতানুগতিক চাকরিতে কখনোই পাবেন না।

৯. সীমাহীন আয় করার সুযোগ।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে আপনি সীমাহীন আয় করার সুযোগ আছে। এমনকি আপনি এখান থেকে মিলিয়ন ডলারও আয় করতে পারবেন খুব সহজে। আপনাকে শুধু আপনারা কর্মদক্ষতার পরিচয় করতে হবে। আর তাছাড়া আপনি চাইলে এক বা একাধিক বিক্রেতা বা কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন।

আপনি যে পরিমাণ অনুমোদিত লিংক থেকে বিক্রি করতে পারবেন তত পরিমাণ কমিশন পাবেন। কোন প্রকার ছাড় দিতে হবে না কাউকে। আপনি চাকরি করার ফলে, প্রতি মাস কিংবা সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। কিন্ত এফিলিয়েটে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি যতবেশি ইচ্ছা আয় করতে পারবেন।

১০. ঝৃুকিঁ কম।

যারা এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে আসেন, তারা বেশিরভাগই সফল। কারণ, এখানে স্বল্প মূলধণের মাধ্যমে শুরু করা যায়। শুরু করার পরে, নির্দিষ্ট একটি সময় প্রদান করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি। বেশি মূলধণ বিনিয়োগ করতে হয় না বলে, সফল না হলেও তেমন একটা প্রভাব পড়ে না ব্যক্তিগত জীবনে। আর তাছাড়া আপনার কাজের দক্ষতা থাকলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন।

আপনি যেসব মাধ্যম ব্যবহার করে এফিলিয়েট মার্কেটার হয়ে উঠতে পারবেন?

এফিলিয়েট মার্কেটিং পদ্ধতিতে কোন মার্কেটার পণ্যের বাজারজাত করবে একই নিয়মে। কিন্ত বাজারজাত করার জন্য ভিন্ন মার্কেটার ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে পণ্যে প্রচার করে থাকে। এক কথায়, সব এফিলিয়েট মার্কেটাররা একইভাবে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে না। কারণ, এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন অনেকগুলো প্লাটফর্মের দ্বারা করা যায়। একেকটা প্লাটফর্ম একেক রকম। চলুন একনজরে আমরা তা দেখে আসি।

১. ইনফ্লুয়েন্সার বা মার্কেটিং।

একজন Influencer মার্কেটার হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি জনসংখ্যার বড় একটি অংশের ক্রয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারেন। একজন Influencer মার্কেটার এফিলিয়েট থেকে আয় করতে খুব সহজে। কারণ, একজন Influencer মার্কেটারের অনেক অনুসারী থাকে যারা ঐ ব্যক্তি দ্বারা প্রভাবিত হয় যেকোন সিদ্ধান্তে। এমতাবস্থায়, Influencer মার্কেটারের জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

তার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, মিডিয়া, ছবি ও ব্লগ ব্যবহার করে বিক্রেতা বা কোম্পানির পণ্যগুলি ক্রয় করার নির্দেশ দেওয়া যায় খুব সহজে। তখন একজন Influencer মার্কেটার লাভবান হয় তার অনুসারীদের মধ্য থেকে কেনা পণ্যগুলোর একটি অংশ দ্বারা।

Instagram ব্যবহার করে Influencer Marketing করাটা বেশ জনপ্রিয়। জনপ্রিয় Influencer একাউন্টগুলির সাথে ব্র্যান্ডগুলি চুক্তিবদ্ধ হয় যাতে তারা একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির পণ্য কিংবা কোম্পানিকে নির্দেশ করতে পারে। চুক্তির উপর নির্ভর করে, একটা প্রচারভিযান ফটো, একাউন্ট টেকওভার, লাইভ ভিডিও ষ্ট্রিমিং কিংবা ভিডিও পাবলিশ করে একটি পণ্যের পর্যালোচনা করা হয়। এতে করে ব্রান্ডগুলির খুব সহজে জনপ্রিয়তা এবং পণ্যগুলি দ্রুত বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

২. ব্লগিং।

আপনি যদি একজন ব্লগার হোন, তাহলে আপনি এখনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে দিতে পারবেন। আপনার সুন্দর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি, কনটেন্ট রাইটিং এবং এসইও দ্বারা আপনি প্যাসিভ ইনকাম করতে পারবেন। কারণ, একজন ব্লগার সার্চ ইঞ্জিন থেকে অর্গানিক্যালি র‍্যাঙ্ক করে, বিক্রেতার বিক্রি বাড়াতে প্রচুর পারদর্শী। ব্লগার, তার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পণ্যের প্রচার, আর্কষণীয় উপায়ে পণ্যের বিস্তৃত পর্যালোচনা (রিভিউ করা) করে । যা ব্র্যান্ডটিকে দারুণ উপায়ে প্রচার করতে সাহায্য করে এবং বিক্রেতার সাইটে বিপুল পরিমাণ ট্র্যাফিক আনতে সহায়তা করে থাকে।

ব্লগারদের প্রভাবিত গ্রাহকরা যখন প্রচার হওয়া পণ্যটি কিনে তাহলে তার জন্য বিক্রেতা কর্তৃক একটি অংশ পায়, যাতে তারা ভবিষ্যতে আরো বেশি গ্রাহক বিক্রেতার ওয়েবসাইটে আনতে সহায়তা করেন।

৩. ইউটিউব।

আপনার যদি একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে, তাহলে আপনিও এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারবেন। কারণ, আপনার ইউটিউব চ্যানেলে আপনাকে বেশকিছু সংখ্যক অনুসারী অনুসরণ করে নিশ্চয়। আপনি আপনার অনুসারীদের জন্য যে ধরণের ভিডিও তৈরি করেন, সেই সম্পর্কিত পণ্যগুলোর প্রচার করতে পারেন এফিলিয়েটের মাধ্যমে।

এতে করে, ইউটিউব এডসেন্স ছাড়া আরো একটি প্যাসিভ ইনকাম করার সুযোগ আপনি পেয়ে যাবেন। যেমন: আপনি যদি টেক রিলেটেড ভিডিও বানিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি টেক রিলেটেড সম্পর্কিত পণ্যগুলোর প্রচার করতে পারেন খুব সহজেই।

৪. ফেসবুক

আপনার যদি একটি ফেসবুক একাউন্ট থাকে তাহলে, আপনি এফিলিয়েটে যুক্ত হতে পারেন। আপনার ফেসবুক বন্ধু কিংবা অনুসারীদের পণ্যগুলি লিংক ব্যবহার করে ক্রয় করার জন্য প্রভাবিত করতে পারেন খুব সহজে। তাছাড়া, এখন ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ভিডিও দিয়েও ইনকাম করা যায়।

ভিডিওতে এবং ভিডিওর বর্ণনায় এফিলিয়েট লিংকগুলো ব্যবহার করে বিক্রেতা বা ব্রান্ডগুলির পণ্যের প্রচার অভিযানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়া, ফেসবুক পোষ্ট, ছবি, ব্লগ লিখেও আপনি ফেসবুকে এফিলিয়েট ব্যবহার করে ইনকাম করতে পারেন।

৫. পেইড এসইও ফোকাসড মাইক্রোসাইট।

মাইক্রোসাইটের বিকাশ এবং নগদীকরণও প্রচুর পরিমাণে বিক্রয় অর্জন করতে পারে। এই সাইটগুলি একটি অংশীদার সাইটের মধ্যে বা একটি সার্চ ইঞ্জিনের স্পনসর তালিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়৷ তারা স্বতন্ত্র এবং প্রতিষ্ঠানের মূল সাইট থেকে আলাদা। একটি নির্দিষ্ট গ্রাহকের কাছে আরও মনোযোগী, প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তু অফার করার মাধ্যমে, মাইক্রোসাইটগুলি তাদের সরল এবং সরল কল টু অ্যাকশনের কারণে রূপান্তর বৃদ্ধি করে। এমন সাইটগুলি ব্র্যান্ডগুলির পণ্য বিক্রি করতে অনেকবেশি সহায়তা করে থাকে।

৬. ই-মেইল মার্কেটিং।

এটি একটি অনেক পুরাতন বিপণন পদ্ধতি এবং এটির মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়ের একটি অনন্য উৎস। এমন কিছু ই-মেইল তালিকার মাধ্যমে আপনাকে গ্রাহকের নিকট বিক্রেতার পণ্যের প্রচার করতে হবে। যেখানে পণ্যের বিভিন্ন অফার, পণ্য সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দিয়ে পণ্যগুলির একটি লিংক যুক্ত থাকবে এবং এই লিংক দ্বারা কোন গ্রাহক পণ্যটি কিনতে প্রভাবিত হয়, তাহলে মার্কেটার এখান থেকে একটি কমিশন উপার্জন করতে পারে।

আর তাছাড়া আপনার ওয়েবসাইট থাকে, তাহলে ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের ই-মেইল সংগ্রহ করতে পারেন। পরবর্তীতে এসব ই-মেইলগুলোতে এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার করতে পারবেন। এভাবেও একটি প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব।

৭. বড় মিডিয়া ওয়েবসাইট।

এ ধরণের ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমাণে দর্শক আনার জন্য সাইট ডিজাইন করা হয়ে থাকে। সাধারণত, এসব সাইটগুলি প্রচুর দর্শক আকর্ষণ করার জন্য ফোকাস করে থাকে। এসব ওয়েবসাইটে ব্যানার ও অনুমোদিত এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার তাদের দর্শকদের কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্যের প্রচার করে। তাছাড়া এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নানা ধরণের অফার দেয় বিক্রেতা কোম্পানিগুলো এবং প্রচুর ট্র্যাফিক পায় কোম্পানিগুলো এখান থেকে। যার ফলে এধরণের ওযেবসাইট বিক্রেতা ও মার্কেটার উভয়ই বেশ ভালো পরিমাণে ইনকাম করে।

সর্বদা প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক তৈরি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, এই সাইটগুলি লক্ষ লক্ষ শ্রোতা তৈরিতে ফোকাস করে৷ এই ওয়েবসাইটগুলি ব্যানার এবং প্রাসঙ্গিক অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের বিশাল শ্রোতাদের কাছে পণ্য প্রচার করে। এই পদ্ধতিটি উচ্চতর এক্সপোজার অফার করে এবং রূপান্তর হারকে উন্নত করে, যার ফলে বিক্রেতা এবং অধিভুক্ত উভয়ের জন্যই শীর্ষস্থানীয় আয় হয়।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সর্বোচ্চ কত টাকা আয় করা যাবে?

আমি আগেই বলেছি, আপনি চাইলে এফিলিয়েট থেকে সীমাহীন আয় করতে পারবেন। কিন্ত তা সম্পূর্ণ আপনার এবং কাজের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে।

সাধারণত:

  • যারা শীর্ষস্থানীয় এফিলিয়েট মার্কেটার রয়েছে তারা মাসে ১ (এক) লাখ ডলারের উপরের উপার্জন করে থাকে।
  • মধ্যবর্তী এফিলিয়েট মার্কেটাররা প্রতি মাসে ১-১০ ডলার পর্যন্ত ইনকাম করে থাকে।
  • যারা একদম নতুন তাদের ইনকাম তারা ইনকাম ০-200 ডলার হতে পারে।

আপনি একটু ইন্টারনেট ঘুরলে দেখলে অন্য কোন ব্যক্তি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ ডলার কমিশন উপার্জন করছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে। তেমনিভাবে আপনিও যদি মেধা ও কর্ম-দক্ষতা কাজে লাগান তাহলে আপনিও মাসে হ্যান্ডসাম একটা ইনকাম নিমিষেই করতে পারবেন। যদিও, পরিশ্রম করবেন কি করবেন না সেটা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত।

কিন্ত, একটা কথা মনে রাখবে আপনি এখানে পরিশ্রম করার সাথে সাথে ফিডব্যাক পাবেন খুব তাড়াতাড়ি। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতার কোন বিকল্প নাই। আপনি যতই ঢালবেন, ততই ফেরত পাবেন। এজন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু বিষয় জানতে হবে।

আরো কিছু বিষয় নির্ভর করে এফিলিয়েট ইনকাম বৃদ্ধি পায়:

  • আপনি যে প্রোডাকটি নিয়ে মার্কেটিং করতেছেন সেই প্রোডাকটির বর্তমানে মার্কেটে চাহিদা কেমন।
  • আপনার মার্কেটিং করা প্রোডাকটি কত দামি।
  • প্রোডাক্ট এর কমিশন হার কেমন।
  • প্রতি মাসে মোট কতটি প্রোডাক্ট বিক্রি করতে পারছেন।
  • আপনার বাছাই করা প্রোডাক্টটি কত ভাল করে মার্কেটিং করতে পেরেছেন।
  • আপনি যে প্রোডাক্ট বা প্রোডাক্টগুলির কত আকর্ষণীয়ভাবে আপনার দর্শকদের নিকট উপস্থাপন করতে পেরেছেন।
  • সেরা প্রোডাক্ট এবং সেরা পণ্য পর্যালোচনা বিষয়গুলি গুগল কিংবা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে কতটুকু র‌্যাংক করা পেরেছেন।

এছাড়াও, অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো মাথায় রাখলে এফিলিয়েট ইনকাম উচ্চহারে বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণ স্বরুপ,

আপনি আপনার ওয়েবসাইটে মনিটর সম্পর্কে আর্টিকেল লিখে ব্লগিং করেন।

আপনি আপনার ওয়েবসাইটে যেহেতু বেশির ভাগ কথা-বার্তা মনিটর সম্পর্কে হয়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের দর্শক কিংবা গ্রাহকরা মনিটরই কিনতে চাইবে বা আগ্রহী হবে।

এখন, আপনার কাজ হবে মনিটর বিক্রি হয় এমন কোন ভাল একটি কোম্পানিতে এফিলিয়েট সাইন আপ করতে হবে। আমি আপনাদেরকে বলব, ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট এর এফিলিয়েট করার জন্য আমাজনের কোন বিকল্প নাই। তাই আপনি চাইলে আমাজন এফিলিয়েট সাইন আপ করে, তাদের মনিটরগুলো প্রমোট করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটের দর্শকদের কাছে। আপনার দর্শকরা যদি কোন একটি মনিটার কিনে তাহলে ৫% থেকে ৮% পর্যন্ত কমিশন পাবেন ।

সাধারণত, মনিটরগুলোর দাম ১০০-৮০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আরো বেশি দামের থাকে, তবে আমরা হিসাব করার জন্য এই প্রাইস রেঞ্জটা নিলাম। মনে করুন, আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মাসে $৫০০ এর ৩৫টি বিক্রি করেন এবং প্রত্যেক মনিটর বিক্রির উপর আপনি যদি ৭% কমিশন পান। তাহলে আপনার মাসিক ইনকাম হবে,

৫০০ X ৩৫ X ৭% = $1225 বা ১০৫,৫৩৩ টাকা।

এছাড়া আপনি যত ভালো প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে পারবেন ততবেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর এখানে ইনকাম করা প্রথমদিকে একটু কঠিন মনে হতে পারে। হ্যাঁ কঠিন, তবে আপনি একবার যদি আয়ত্ব করে ফেলেন আপনি আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন আপনি বুঝতেও পারবেন না। আর এখানে একটু ধৈর্যকে কাজে লাগাতে হবে। কথায় আছে, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি। আপনি ধৈর্যের সাথে পরিশ্রম করতে থাকলে আপনি এখান থেকে অভাবনীয় ইনকাম করতে পারবেন।

বিখ্যাত ব্লগার অনিল আগারওয়াল, “তার ব্লগ সাই ব্লগার প্যাশন থেকে $200k এর উপর ইনকাম করেছেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করে “। তার এক পোষ্টে তিনি বলেন, আপনি চাইলে এখান থেকে সীমাহীন ( Unlimited) ইনকাম করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভবিষ্যত কেমন?

ভারতের একটি রিপোর্ট অনুসারে, এফিলিয়েট মার্কেটিং শিল্পে ২০২৫ সালের মধ্যে ৮৪৫ মিলিয়ন ডলার বা আট গুণ বৃদ্ধি পাবে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যা ২০১৬ সালে ছিল মাত্র ৯৬ মিলিয়ন ডলার।

ধারণা করা হয়, ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যয় বৃদ্ধি কারণে ই-কমার্সের বাইরে নতুন শিল্প এফিলিয়েট মার্কেটিং। কারণ, এ বিপণন পদ্ধতিতে অনেক বেশি সাশ্রয়ী মার্কেটিং এবং উন্নত সিস্টেমের কারণে সু-শৃঙ্খল একটি পণ্যের প্রচারণা করা যায়।

দিন দিন মানুষ অনলাইনের উপর অনেক বেশি নির্ভর হয়েছে ফলে, অনলাইনে কেনা-কাটা বিষয়টি ‍আরো বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে। এমতাবস্থায়, এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়টি প্রতিদিন জনপ্রিয় ও সমাদৃত একটি বিপণন মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

David Vogelpohl, WP ইঞ্জিনের ওয়েব কৌশলের ভিপি বলেছেন, “আগামী 10-15 বছরের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ভবিষ্যত মাল্টি-টাচ অ্যাট্রিবিউশনের বিবর্তনের দ্বারা প্রাধান্য পাবে এবং এর বৃদ্ধি চলমান খুচরা অ্যাপোক্যালিপস দ্বারা চালিত হবে। যেহেতু বিপণন বিভাগগুলি আরও টাচ-পয়েন্টকে লক্ষ্য করে এবং বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্মগুলি মাল্টি-টাচ অ্যাট্রিবিউশনে আরও দৃশ্যমানতা প্রদান করে, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের অ্যাফিলিয়েট কমিশন মডেলগুলি পুনর্বিবেচনা করবে এবং অ্যাট্রিবিউশনের ওজনের উপর ভিত্তি করে আরও পরিবর্তনশীল কমিশন অফার করবে। অতিরিক্ত হিসাবে, খুচরা অ্যাপোক্যালিপস যেহেতু আরও কোম্পানিকে তাদের ডিজিটাল উপস্থিতি বনাম তাদের শারীরিক উপস্থিতির উপর ফোকাস করতে বাধ্য করে, তাই এই অনলাইন ব্র্যান্ড এবং অ্যামাজনের মধ্যে বর্ধিত প্রতিযোগিতার জন্য অ্যাফিলিয়েট ল্যান্ডস্কেপ প্রসারিত হবে এবং বৃদ্ধি পাবে। সংক্ষেপে, বিজ্ঞাপনদাতারা কমিশনের বিষয়ে আরও স্মার্ট হবেন এবং প্রকাশকরা তাদের মনোযোগের জন্য প্রত্যাশী বিজ্ঞাপনদাতাদের একটি ক্রমবর্ধমান তালিকা থেকে উপকৃত হবেন।”

David Vogelpohl, WP ইঞ্জিনের ওয়েব কৌশলের ভিপি, https://www.futureofeverything.io/future-affiliate-marketing/

এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে যত প্রশ্ন?

আমি এই পোস্টে এফিলিয়েট মার্কেটিং সর্ম্পকে অনেক তথ্য-উপাত্ত শেয়ার করেছি। এত তথ্য-উপাত্ত জানার পর নিশ্চয় আপনার মনে এই বিষয়ে অনেক ধরণের প্রশ্ন জেগেছে। শুধু আপনার মনে কেন যে কারো কাছে এসব প্রশ্ন তৈরি হবে। চলুন আপনার মনে তৈরি হওয়ার এমন অনেক প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর জানা যাক।

১. এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য আমার কোন জিনিসটা এখন প্রয়োজন?

শুরু করার জন্য এই মূহুর্তে আপনার দরকার হবে। ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ কিংবা জনপ্রিয় অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া। যদি আপনি একজন Infulencer হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল কোনটিই দরকার হবে না।

২. এফিলিয়েট শুরু করার জন্য এফিলিয়েট স্পন্সর কোথায় পাব?

আপনি গুগলে একটু খোঁজলে হাজার হাজার এফিলিয়েট স্পন্সর কোম্পানি বা ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন। তাছাড়া আমি উপরে দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ১০টি এফিলিয়েট কোম্পানি দিয়েছি, আপনি চাইলে ওখান থেকে যেকোন একটি ব্যবহার করে কাজ শুরু করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে অন্য কোন সাইট ব্যবহার করে কাজ শুরু করে দিতে পারেন। আপনি কোন সাইট বা কোম্পানি দিয়ে কাজ শুরু করবেন তা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাপার!

৩. এফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন হওয়ার কত টাকা লাগে?

এফিলিয়েট সাইটে জয়েন হওয়ার কোন প্রকার টাকা লাগে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আপনি যেকোন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন। শুধুমাত্র, তাদের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা শর্ত পূরণ করলে আপনি প্রোগ্রামে জয়েন হতে পারবেন। বলতে গেলে, তা খুব নগণ্য কিছু শর্ত। একজন এফিলিয়েট মার্কেটারের জন্য এসব শর্ত পানির মতই।

৪. এফিলিয়েট করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম কোনটি?

এফিলিয়েট মার্কেটিং করার সবচেয়ে বেশি কার্যকরী মাধ্যম হচ্ছে ওযেবসাইট কিংবা একটি ইউটিউব চ্যানেল। কারণ, এ দুটির মাধ্যমে আপনি স্মার্ট পন্থায় উপার্জন করতে পারবেন। তাছাড়া, এ দুটি মাধ্যমে আপনি প্রচুর দর্শকদের কাছে পৌছাতে পারবেন অনায়াসেই। এতে করে আপনার ইনকাম দ্রুতই বৃদ্ধি পাবে।

৫. কোন ধরণের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করলে সফলতা পাব?

আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী, যেকোন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করলে আপনি সফল হবেন। কিন্ত এমন কিছু প্রোডাক্ট আছে যেগুলো নিয়ে কাজ করলে আপনি অতিদ্রুত সফল হবেন। কাজ করার সময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে এমন কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে যাতে কাজ করতে পারি।

তাছাড়া কিছু বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে:

  • যে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করব ঐ প্রোডাক্ট সারাবছর বিক্রি হবে কিনা।
  • প্রোডাক্টটি নিয়ে লেখা বা ভিডিওটি পাবলিশ করবে সেটি দ্রুত র‌্যাংক হবে কিনা।
  • ঐ প্রোডাক্টের চাহিদা বাজারে কেমন।
  • ঐ প্রোডাক্ট মানুষ খোজেঁ কিনা।

যে ধরণের প্রোডাক্টগুলো বর্তমান বাজারে বেশি চাহিদা রয়েছে:

  • বেবি প্রোডাক্ট।
  • গার্ডেনিং টুলস
  • কিচেন টুলস
  • শখ-বিষয়ক যেকোন প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র।
  • স্মার্টফোন
  • হোম সিকিউরিটি।
  • প্রযুক্তি পণ্য।
  • বই।
  • ডোমেইন এবং হোস্টিং (প্রচুর চাহিদা রয়েছে)।
  • ওয়ার্ডপ্রেস থিম ও প্লাগিন।
  • ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এক্সেসরিজ।
  • জামা-কাপড় ইত্যাদি।

৬. আয় করা টাকা কিভাবে তুলব?

আপনি পর্যাপ্ত কমিশন আয় করার পর আপনাকে একটি পেমেন্ট ফর্ম পূরণ করতে বলা হবে। আপনি ঐ ফর্মে আপনার ব্যাংক একাউন্টের সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। তাছাড়া আপনি চাইলে, যেকোন দেশের ব্যাংক একাউন্টে টাকা আনতে দ্রুত ও সহজ উপায়ে। এতে আপনাকে কোন প্রকার ঝামেলাই পড়তে হবে না এটা নিশ্চিত থাকেন।

কিভাবে সফল এফিলিয়েট মার্কেটার হবেন?

সকল মানুষ চায়, সে যেকোন কাজে অবশ্যই তাকে সফল হতে হবে। কিন্ত সফল হওয়ার জন্য অনেকগুলো পথ তাকে পাড়ি দিতে হয়। অনেক দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। কারণ, একজন মানুষের সফলতা নির্ভর করে তার কাজ করার উপর।

সফল হওয়ার পেছনে অনেক মন্ত্র ( কারণ ) থাকে। তেমনিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হতে হলে আপনাকে যেসব বিষয়ে খেয়ার রাখতে হবে।

  • ধৈর্য ধরতে হবে।
  • দক্ষতার সহিত সকল কাজ সম্পাদন করতে হবে।
  • এটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে যান।
  • এটিকে নিজের কাজ মনে করুন।
  • পণ্য ও পরিষেবা পর্যালোচনা করুন।
  • বিভিন্ন উৎসের তথ্য ব্যবহার করতে শিখুন।
  • যত্ন সহকারে পণ্যের প্রচার করুন।
  • ট্রেন্ডি থাকার চেষ্টা করুন।
  • সততার সাথে কাজ করতে হবে।
  • এসইও’কে গুরুত্ব দিন।
  • আপনার অডিয়েন্সদের আগ্রহ বোঝার চেষ্টা করুন।
  • অডিয়েন্সদের আপ টু ডেট রাখার চেষ্টা রাখুন।
  • অডিয়েন্সদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
  • অডিয়েন্সদের প্রয়োজনীয়তা বোঝার চেষ্টা করুন।

আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে চান তাহলে, আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন,

  • কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?

শেষ কথা।

আপনি যদি পুরো আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই এফিলিয়েট মার্কেটিং কি তা সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক জেনেছেন আশা করি। আমি চেষ্টা করেছি, এফিলিয়েট মার্কেটিং কি সে সম্পর্কে খুটিঁনাটি সমস্ত বিষয় বলতে। এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং এর পেছনের গল্প থেকে শুরু করে, এর ভবিষ্যত, শুরু করতে কি কি লাগবে, কত টাকা আয় করতে পারবেন, আপনি কেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সবকিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি, আপনি পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। যদি বুঝতে পারেন, তবে আপনি কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাতে পারেন। কারণ, আপনাদের সামান্য পরিমাণের উৎসাহ আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে।

আপনি চাইলে আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুর নিকট শেয়ার করতে পারেন। তারাও যাতে জানতে পারে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে।

আরো পড়ুন:

হ্যাপি মার্কেটিং!

Related Posts

2 thoughts on “এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? যে ১০ কারণে এফিলিয়েট মার্কেটি করা উচিত

Leave a Reply

Your email address will not be published.